বৌদ্ধধর্মের জন্ম ও প্রাথমিক বিস্তার: অজানা রহস্যের উন্মোচন যা আপনার ধারণাকে পাল্টে দেবে!

webmaster

불교의 탄생과 초기 확산 - **Prompt:** A serene and deeply contemplative Siddhartha Gautama, approximately 35 years old, sits i...

বন্ধুরা, কেমন আছো সবাই? আশা করি একদম ঝরঝরে আছো। আমরা তো প্রতিনিয়ত জীবন আর জগতের নানা রহস্য নিয়ে আলোচনা করি। আজ এমন একটা বিষয় নিয়ে কথা বলবো, যা শুধু ইতিহাস নয়, আমাদের বর্তমান আর ভবিষ্যৎকেও গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। ভাবছো কিসের কথা বলছি?

불교의 탄생과 초기 확산 관련 이미지 1

হ্যাঁ, আজ আমরা ডুব দেব সেই প্রাচীন জ্ঞানের সাগরে, যেখানে এক অসাধারণ আলোর জন্ম হয়েছিল – বৌদ্ধধর্মের উত্থান আর তার প্রথম দিকের বিস্তারের গল্প।আমরা যখন নিজেদের জীবনে শান্তি খুঁজি, চারপাশের অস্থিরতায় যখন মন টলে ওঠে, তখন প্রায়শই ফিরে তাকাই সেইসব শাশ্বত দর্শনের দিকে। গৌতম বুদ্ধের জীবন দর্শন, তাঁর দেখানো পথ, আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের মনের অন্ধকার দূর করে শান্তির পথ দেখাচ্ছে। কিভাবে এক রাজকুমার সব আরাম-আয়েশ ছেড়ে বেরিয়ে পড়লেন সত্যের খোঁজে, আর কিভাবে তাঁর সেই আবিষ্কার গোটা এশিয়া ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লো – ভাবলে অবাক হতে হয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতাতেও দেখেছি, যখনই মনে একটু অস্থিরতা এসেছে, বুদ্ধের অহিংসা আর মধ্যপন্থা আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। এই যে এত বছর পরেও তাঁর বাণী এত প্রাসঙ্গিক, সেটাই তো আসল ম্যাজিক, তাই না?

আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে মানসিক শান্তি আর আত্মানুসন্ধানের জন্য বৌদ্ধধর্মের শিক্ষাগুলি যেন এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। কিভাবে এই প্রাচীন ধর্ম এত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল, সেটাই আজ আমরা খুঁটিয়ে দেখব।চলো তাহলে, নিচে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

রাজকুমারের মহাজাগতিক পথযাত্রা: বোধি লাভের গল্প

বন্ধুরা, ভাবো তো একবার! একটা ছেলে, যার জীবনে কোনো অভাব নেই, রাজপ্রাসাদের সমস্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য তার হাতের মুঠোয়। কিন্তু তার মন টিকছে না। সে দেখছে জীবনের ক্ষণস্থায়ী রূপ, মানুষের দুঃখ-কষ্ট, জরা-ব্যাধি, মৃত্যু। এই উপলব্ধিটাই তাকে অন্য পথে হাঁটা শেখালো। আমার নিজের জীবনেও এমন অনেক সময় এসেছে, যখন বাইরের চাকচিক্য আমাকে আর টানেনি, বরং ভেতরের একটা গভীর শূন্যতা আমাকে অস্থির করে তুলেছে। ঠিক যেমন রাজকুমার সিদ্ধার্থ গৌতমের হয়েছিল। তাঁর সেই ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত, সংসারের মায়া ত্যাগ করে সত্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া—এটা কেবল একটা ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটা মানবজাতির এক অসাধারণ আত্মানুসন্ধানের প্রতীক। দিনের পর দিন তিনি কঠোর তপস্যা করেছেন, নিজের শরীরকে কষ্ট দিয়েছেন, ভেবেছেন এই পথেই হয়তো নির্বাণ মিলবে। কিন্তু যখন বুঝলেন, অতিরিক্ত ভোগ বা অতিরিক্ত ত্যাগ কোনোটাই সঠিক পথ নয়, তখনই এল সেই ঐতিহাসিক বোধিপ্রাপ্তির মুহূর্ত। বোধগয়ার সেই অশ্বত্থ গাছের নিচে তিনি যখন ধ্যানমগ্ন হলেন, তখন শুধু তিনি একা ছিলেন না, যেন গোটা মানবজাতি তাঁর সাথে এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় ছিল। তাঁর সেই আত্মোপলব্ধি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, ছিল লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য আলোর দিশা। এটা আমাকে শেখায় যে, সত্যিকারের জ্ঞান বাইরে নয়, বরং আমাদের নিজেদের ভেতরেই লুকিয়ে আছে, শুধু তাকে খুঁজে বের করার জন্য দৃঢ় সংকল্প আর ধৈর্য দরকার। সিদ্ধার্থের এই যাত্রা দেখিয়ে দেয় যে, আত্ম-অনুসন্ধান আর আত্ম-সাক্ষাৎকার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হতে পারে।

সিদ্ধার্থের ত্যাগ ও জাগতিক মায়া ত্যাগ

গৌতম বুদ্ধের জীবন কাহিনী আমাদের শেখায় যে, সত্যিকারের সমৃদ্ধি বস্তুগত সুখের মধ্যে থাকে না। একসময় সিদ্ধার্থ ছিলেন রাজপুত্র, তাঁর সামনে ছিল বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার। তিনি রাজপ্রাসাদের প্রাচীরের বাইরে জীবনের কঠিন সত্যগুলো দেখেই বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। জরা, ব্যাধি, মৃত্যু—এই তিনটি দৃশ্য তাঁর মনে এক গভীর ছাপ ফেলেছিল, যা তাঁকে সংসারের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। এই মায়া ত্যাগের সিদ্ধান্তটা কতটা কঠিন ছিল, আমরা যারা আধুনিক জীবনে সবকিছুর পেছনে ছুটি, তারা হয়তো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি না। তাঁর এই ত্যাগ কিন্তু শূন্যতা তৈরির জন্য ছিল না, বরং জীবনের গভীর অর্থ খুঁজে বের করার এক অনন্য প্রচেষ্টা ছিল। তাঁর পথ দেখিয়েছে, যখন আমরা জাগতিক বন্ধন থেকে নিজেদের মুক্ত করি, তখনই সত্যিকারের মুক্তির স্বাদ অনুভব করা সম্ভব হয়।

বোধি লাভে মধ্যপন্থা আবিষ্কার

অনেক কঠোর তপস্যার পর সিদ্ধার্থ গৌতম বুঝতে পেরেছিলেন যে, চরম ভোগ বা চরম কৃচ্ছ্রসাধন কোনোটাতেই মুক্তি নেই। এই চরম পন্থার বদলে তিনি বেছে নিলেন এক ভারসাম্যপূর্ণ পথ, যা ‘মধ্যপন্থা’ নামে পরিচিত। এই মধ্যপন্থা হলো সবকিছুর মধ্যে একটা স্বাভাবিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া, অতিরিক্তকে পরিহার করা। আমার নিজের অভিজ্ঞতাতেও দেখেছি, জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই চরমপন্থা খুব একটা সুফল বয়ে আনে না। সবকিছুর মাঝে একটা সুন্দর ভারসাম্যই আমাদের মনে শান্তি এনে দেয়। বোধিবৃক্ষের নিচে গভীর ধ্যানের মাধ্যমেই তিনি এই মধ্যপন্থা আবিষ্কার করেন এবং নির্বাণ লাভ করেন। এই পথ শুধু তাঁর নিজের জন্য ছিল না, ছিল সমগ্র মানবজাতির জন্য এক চিরন্তন বার্তা।

চার আর্য সত্যের গভীরতা: দুঃখ মুক্তির পথ

বুদ্ধের বোধি লাভের পর তাঁর প্রথম উপদেশ ছিল এই চার আর্য সত্যের ওপর। প্রথমবার যখন আমি এই সত্যগুলোর সাথে পরিচিত হয়েছিলাম, আমার মনে হয়েছিল, এগুলি তো আমাদের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি!

জীবনে দুঃখ আছে, এটা আমরা সবাই জানি, কিন্তু বুদ্ধ এমনভাবে দুঃখের উৎস আর তার থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন, যা সত্যি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। প্রথম আর্য সত্য হলো ‘দুঃখ আছে’, দ্বিতীয় আর্য সত্য ‘দুঃখের কারণ আছে’, তৃতীয় আর্য সত্য ‘দুঃখ নিবৃত্তি সম্ভব’ এবং চতুর্থ আর্য সত্য হলো ‘দুঃখ নিবৃত্তির পথ আছে’। ভাবো তো, কত সরল আর স্পষ্ট ভাষায় তিনি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্য উন্মোচন করেছেন। এই চারটি সত্য শুধু তত্ত্ব কথা নয়, এগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মতো এক গভীর দর্শন। তিনি দেখিয়েছেন যে, আমাদের সকল দুঃখের মূল কারণ হলো তৃষ্ণা বা আসক্তি। আমরা যখন কোনো কিছু আঁকড়ে ধরতে চাই, তখনই দুঃখের বীজ বোনা হয়। আমার নিজের জীবনে যখনই কোনো কিছুকে খুব বেশি আঁকড়ে ধরেছি, তখনই হতাশ হয়েছি। বুদ্ধের এই শিক্ষা আমাকে শিখিয়েছে, কোনো কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণই দুঃখের কারণ। এই চার আর্য সত্য আমাদের মনে এক নতুন আলোর সঞ্চার করে, যা আমাদেরকে মানসিক শান্তি আর আত্মিক মুক্তির দিকে নিয়ে যায়।

দুঃখের কারণ ও নিবৃত্তির সম্ভাবনা

বৌদ্ধ দর্শন অনুযায়ী, আমাদের জীবনে সকল দুঃখের কারণ হলো তৃষ্ণা বা আসক্তি। আমরা যখন কোনো কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ি, তা ধন-সম্পদ হোক, ক্ষমতা হোক বা প্রিয়জনই হোক, তখনই আমাদের দুঃখের শুরু হয়। এই তৃষ্ণা আমাদের বার বার জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবদ্ধ রাখে। কিন্তু আনন্দের কথা হলো, বুদ্ধ এটাও দেখিয়েছেন যে, এই দুঃখের নিবৃত্তি সম্ভব। যখন আমরা এই তৃষ্ণার মূল উৎপাটন করতে পারি, তখনই আমরা দুঃখ থেকে মুক্তি পেতে পারি। এই উপলব্ধি আমাদের মনে এক দারুণ আশার সঞ্চার করে। এই প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভেতর থেকে আত্মনিয়ন্ত্রণ আর আত্ম-বিশুদ্ধির মাধ্যমে আমরা দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি।

অষ্টাঙ্গিক মার্গ: শান্তির পথে আটটি ধাপ

দুঃখ নিবৃত্তির পথ হলো অষ্টাঙ্গিক মার্গ। এটি আটটি সঠিক পথের সমষ্টি, যা অনুসরণ করলে একজন ব্যক্তি দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করে নির্বাণ প্রাপ্ত হতে পারে। এই আটটি পথ হলো – ১.

সঠিক জ্ঞান, ২. সঠিক সংকল্প, ৩. সঠিক বাক্য, ৪.

সঠিক কর্ম, ৫. সঠিক জীবনধারণ, ৬. সঠিক প্রচেষ্টা, ৭.

সঠিক মনন এবং ৮. সঠিক সমাধি। এই পথগুলি কেবল আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্যই নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এক ভারসাম্যপূর্ণ ও নৈতিক জীবন যাপনের জন্যও অপরিহার্য। আমার মনে হয়, এই আটটি পথ আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এক শান্ত ও সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে।

Advertisement

সংঘের জন্ম ও তার শক্তি: এক নতুন সমাজের বুনিয়াদ

বুদ্ধের বোধি লাভের পর তাঁর প্রথম শিষ্যরা যখন তাঁর শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হলেন, তখন থেকেই সংঘের জন্ম হয়। সংঘ মানে হলো ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীদের এক সম্প্রদায়, যারা বুদ্ধের দেখানো পথ অনুসরণ করে এবং ধর্ম প্রচার করে। এই সংঘ ছিল এক বিপ্লবী ধারণা। তৎকালীন সমাজে যেখানে বর্ণপ্রথা আর সামাজিক বৈষম্য প্রকট ছিল, সেখানে সংঘ সবাইকে সমান চোখে দেখত। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এই সাম্যের ধারণাই সংঘকে এত শক্তিশালী করেছিল। রাজা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সমাজের সব স্তরের মানুষই সংঘের সদস্য হতে পারত, তাদের অতীত বা সামাজিক অবস্থান এখানে কোনো বাধা ছিল না। সংঘের সদস্যরা বিনয় মেনে চলতেন, ভিক্ষা করে জীবন ধারণ করতেন এবং নিজেদের জীবনকে ধ্যানে ও ধর্মচর্চায় উৎসর্গ করতেন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বৌদ্ধধর্মকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিল। সংঘের শক্তি শুধু আধ্যাত্মিক দিকেই ছিল না, এটি ছিল এক সামাজিক বন্ধনও। যখন মানুষজন দেখল, কিভাবে এই সংঘের সদস্যরা একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল, কীভাবে তারা সমাজের মঙ্গলের জন্য কাজ করছেন, তখন আরও বেশি মানুষ তাদের দিকে আকৃষ্ট হলো। সংঘের এই সাম্য আর ভালোবাসার নীতি আজও আমাদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা।

সংঘের প্রাথমিক কাঠামো ও বিনয়

বুদ্ধ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সংঘের একটি সুসংগঠিত কাঠামো ছিল, যা ‘বিনয়’ নামে পরিচিত কঠোর নিয়মাবলী দ্বারা পরিচালিত হতো। এই নিয়মগুলি ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীদের দৈনন্দিন জীবন, আচরণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করত। বিনয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সংঘের মধ্যে শৃঙ্খলা, একতা এবং আধ্যাত্মিক পবিত্রতা বজায় রাখা। আমার মনে হয়, যেকোনো বড় সংগঠনের জন্যই সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী থাকা কতটা জরুরি, তা সংঘের কাঠামো দেখলে বোঝা যায়। ভিক্ষুরা নিরামিষভোজী ছিলেন এবং কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারী হতেন না; তাদের একমাত্র সম্বল ছিল ভিক্ষাপাত্র, একটি চীবর এবং কিছু ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় জিনিস। এই সরল জীবনযাপন তাদের ভোগবাদ থেকে দূরে রেখেছিল এবং আধ্যাত্মিক সাধনার উপর মনোনিবেশ করতে সাহায্য করেছিল।

সামাজিক সাম্য ও সংঘের ভূমিকা

প্রাচীন ভারতের বর্ণপ্রথা-ভিত্তিক সমাজে সংঘ ছিল এক বিপ্লবী শক্তি। বুদ্ধ কোনো বর্ণ বা গোত্র ভেদাভেদ করেননি, তিনি সবাইকে সংঘে স্বাগত জানিয়েছিলেন। রাজা, বণিক, কৃষক, এমনকি সমাজের সর্বনিম্ন স্তরের মানুষও সংঘে যোগ দিতে পারত এবং সবাইকেই সমান মর্যাদা দেওয়া হতো। এই সাম্যের বার্তা তৎকালীন সমাজে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। আমার মতে, সংঘের এই বৈশিষ্ট্যই বৌদ্ধধর্মকে এত দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলেছিল। যখন মানুষ দেখল, ধর্মের ছত্রছায়ায় সবাই সমান, তখন তারা স্বস্তি পেল এবং বুদ্ধের প্রতি তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হলো। সংঘ শুধু ধর্ম প্রচারই করেনি, এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতার এক মডেল হিসেবে কাজ করেছিল।

অশোকের ছায়ায় বৌদ্ধধর্ম: এক সাম্রাজ্যের আধ্যাত্মিক বিপ্লব

সম্রাট অশোকের কথা শুনলেই আমার মনে একটা অদ্ভুত শান্তি আসে। একজন প্রবল পরাক্রমশালী রাজা, যিনি কলিঙ্গ যুদ্ধের বীভৎসতা দেখে এতটাই অনুতপ্ত হয়েছিলেন যে, যুদ্ধ ছেড়ে শান্তির পথ বেছে নিলেন!

এটা সত্যিই বিশ্বাস করা কঠিন, তাই না? একজন রাজার পক্ষে নিজের শক্তিকে এমনভাবে রূপান্তরিত করা—এটা এক বিশাল পরিবর্তন। আমার কাছে এটা মানুষের ভেতরের ভালো দিকটাকে খুঁজে পাওয়ার এক দারুণ উদাহরণ। সম্রাট অশোকের শাসনকালে বৌদ্ধধর্মের বিস্তার এক নতুন মাত্রা পেয়েছিল। তিনি কেবল ব্যক্তিগতভাবে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেননি, বরং এটিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন। তাঁর শিলালিপি আর স্তম্ভলিপিগুলো আজও শান্তির বার্তা বহন করে চলেছে। তিনি অহিংসা, নৈতিকতা আর সহাবস্থানের আদর্শ প্রচার করেছিলেন। কোনো বলপ্রয়োগ বা যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, বরং করুণা আর মৈত্রীর মাধ্যমে তিনি বৌদ্ধধর্মকে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বৌদ্ধধর্মের মূল্যবোধগুলোকে তাঁর সাম্রাজ্যের আইন ও নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। অশোকের এই পদক্ষেপগুলো শুধু বৌদ্ধধর্মের জন্যই নয়, মানব ইতিহাসের জন্যই এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি দেখিয়েছিলেন যে, ক্ষমতা দিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা আর সহনশীলতা দিয়েও একটি সমাজকে পরিবর্তন করা সম্ভব।

Advertisement

কলিঙ্গ যুদ্ধ ও অশোকের হৃদয়ের পরিবর্তন

সম্রাট অশোকের জীবনে কলিঙ্গ যুদ্ধ এক টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এই যুদ্ধে যে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং যে ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গিয়েছিল, তা অশোকের মনে এক গভীর দাগ কেটেছিল। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে তিনি এতটাই অনুতপ্ত হয়েছিলেন যে, তাঁর হৃদয় সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। আমার মনে হয়, আমরা সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই, যখন কোনো ঘটনা আমাদের ভেতরের মানুষটাকে পুরোপুরি বদলে দেয়। অশোক সেই মুহূর্তেই যুদ্ধ ত্যাগ করে বৌদ্ধধর্মের অহিংসার পথ বেছে নেন। এই ঘটনা শুধু অশোকের জীবনকেই নয়, বরং পুরো ভারতীয় উপমহাদেশ এবং বৌদ্ধধর্মের ভবিষ্যৎকেও পাল্টে দিয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও ধর্মপ্রচার

বৌদ্ধধর্ম প্রসারে সম্রাট অশোকের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছিল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। তিনি শুধু নিজের জীবনেই বৌদ্ধধর্মের আদর্শ গ্রহণ করেননি, বরং এই ধর্মকে সমগ্র সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধ স্তম্ভ ও স্তূপ নির্মাণ করেন এবং শিলালিপির মাধ্যমে ধর্মের নীতিগুলি প্রচার করেন। তাঁর প্রেরণায় সংঘের ভিক্ষুরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বিদেশেও ধর্ম প্রচারে যান। তাঁর এই কার্যক্রমের ফলেই বৌদ্ধধর্ম ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পশ্চিম এশিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অশোকের এই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পদক্ষেপ ছাড়া বৌদ্ধধর্মের এই বিশ্বব্যাপী বিস্তার হয়তো সম্ভবই হতো না।

বিদেশ বিভুঁইয়ে বুদ্ধবাণী: দূর দূরান্তে ধর্ম প্রচার

বুদ্ধের শিক্ষা শুধু ভারতের সীমানায় আবদ্ধ থাকেনি। সংঘের শক্তি আর অশোকের পৃষ্ঠপোষকতা বৌদ্ধধর্মকে বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিল। আমার যখন বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়, তখন দেখি কত দেশে, কত ভিন্ন সংস্কৃতিতে বুদ্ধের বাণী আজও জীবন্ত। ভাবলে অবাক লাগে, কত প্রাচীনকালে যোগাযোগের এত সীমিত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে ধর্ম প্রচারকরা এতদূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন!

সিংহল (বর্তমান শ্রীলঙ্কা), দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, এমনকি মধ্য এশিয়াতেও বুদ্ধের অহিংসা আর শান্তির বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। এই ধর্মপ্রচারকরা কেবল ধর্মই নিয়ে যাননি, সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন ভারতের সংস্কৃতি আর জ্ঞান। তাঁরা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভাষার সাথে মিশে গিয়েছিলেন, যার ফলে বৌদ্ধধর্ম স্থানীয় মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। এই যে এক সংস্কৃতি থেকে আরেক সংস্কৃতিতে একটা দর্শন এমন সসম্মানে গৃহীত হচ্ছে, এটা সত্যিই এক দারুণ ব্যাপার। এই পুরো প্রক্রিয়াটা আমাকে মনে করিয়ে দেয়, ভালো কিছু সব বাধা পেরিয়ে ঠিকই তার গন্তব্যে পৌঁছায়।

মিশনারি কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক বিস্তার

বৌদ্ধধর্মের প্রাথমিক বিস্তার মূলত মিশনারি কার্যক্রমের মাধ্যমেই হয়েছিল। সম্রাট অশোক তাঁর পুত্র মহেন্দ্র এবং কন্যা সংঘমিত্রাকে শ্রীলঙ্কায় ধর্ম প্রচারের জন্য পাঠিয়েছিলেন। এই ঘটনা শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে এবং আজও শ্রীলঙ্কার সংস্কৃতিতে বৌদ্ধধর্মের গভীর প্রভাব দেখা যায়। শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতেও বৌদ্ধধর্মের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। আমার মনে হয়, এই ধর্মপ্রচারকদের আত্মত্যাগ এবং নিষ্ঠাই বুদ্ধের বাণীকে এত দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পেরেছিল। তারা হেঁটে, নৌকায় চড়ে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়েছিলেন, শুধু শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

প্রাচীন বাণিজ্য পথ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান

প্রাচীনকালে বাণিজ্য পথগুলি কেবল পণ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম ছিল না, সেগুলি ছিল সংস্কৃতি ও ধারণার আদান-প্রদানেরও পথ। সিল্ক রুটের মতো বাণিজ্য পথগুলি মধ্য এশিয়া এবং চীন পর্যন্ত বৌদ্ধধর্মের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ভারতীয় বণিক এবং বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা এই পথগুলি দিয়ে ভ্রমণ করতেন, এবং তাদের মাধ্যমে বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা ও শিল্পকলাও ছড়িয়ে পড়ত। আমার মনে হয়, আজকের ইন্টারনেটের যুগে যেমন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, প্রাচীনকালে এই বাণিজ্য পথগুলি তেমনই এক ধরনের “তথ্য মহাসড়ক” হিসেবে কাজ করত। এইভাবে, বৌদ্ধধর্ম কেবল একটি ধর্ম হিসেবে নয়, একটি সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবেও বিশ্বজুড়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছিল।

বৌদ্ধধর্মের মানবিক আবেদন: কেন আজও এত প্রাসঙ্গিক?

বন্ধুরা, এই যে এত প্রাচীন একটা ধর্ম, আজকের এত আধুনিক জগতেও কেন এর এত প্রাসঙ্গিকতা? আমি যখনই জীবনের কোনো জটিল পরিস্থিতিতে পড়ি, বুদ্ধের অহিংসা, মৈত্রী আর করুণার বাণী আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। তাঁর শিক্ষা শুধু ঈশ্বর বা পরকাল নিয়ে জটিল তত্ত্বকথায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং মানুষের জীবনের দুঃখ, কষ্ট আর সেগুলোর থেকে মুক্তির ব্যবহারিক পথ দেখিয়েছিল। এটা একটা দারুণ ব্যাপার, তাই না?

불교의 탄생과 초기 확산 관련 이미지 2

আমরা যখন নিজেদের চারপাশের অস্থিরতা দেখি, হানাহানি দেখি, তখন বুদ্ধের শান্তির বার্তা আরও বেশি করে আমাদের মনে দোলা দেয়। তাঁর মানবিক আবেদনই বৌদ্ধধর্মকে আজও সজীব রেখেছে। বুদ্ধ দেখিয়েছেন যে, শান্তি লাভের জন্য কোনো বিশেষ ধর্মীয় আচার বা বর্ণভেদের দরকার নেই, দরকার শুধু নিজেদের ভেতরের শুদ্ধি আর অন্যের প্রতি সহানুভূতি। আমার নিজের জীবনেও, যখনই আমি অন্যদের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হতে পেরেছি, তখনই আমার মনে এক অন্যরকম শান্তি অনুভব করেছি। এই ধর্ম আমাদের শেখায় যে, নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যের প্রতি ভালোবাসা দেখানো—এগুলোই হলো সত্যিকারের সুখের চাবিকাঠি।

Advertisement

অহিংসা ও করুণার চিরন্তন বার্তা

বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তি হলো অহিংসা এবং সকল প্রাণীর প্রতি করুণা। বুদ্ধ শুধু মানুষের প্রতিই নয়, জগতের সকল প্রাণীর প্রতি অহিংসা প্রদর্শনের কথা বলেছেন। আমার মনে হয়, এই যুগে যখন সহিংসতা আর সংঘাত আমাদের চারপাশকে গ্রাস করছে, তখন অহিংসার এই বার্তা আরও বেশি করে জরুরি। এই করুণা কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং এক গভীর প্রজ্ঞা থেকে উৎসারিত। যখন আমরা অন্যের দুঃখকে নিজের দুঃখ বলে অনুভব করি, তখনই সত্যিকারের করুণার জন্ম হয়। বৌদ্ধধর্মের এই নীতিগুলি আজও লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে নিজেদের জীবনকে আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে।

বর্তমান বিশ্বে মানসিক শান্তি ও বৌদ্ধধর্ম

আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ও চাপযুক্ত বিশ্বে মানসিক শান্তি খুঁজে পাওয়া যেন এক কঠিন কাজ। হতাশা, দুশ্চিন্তা আর স্ট্রেস আমাদের নিত্যসঙ্গী। ঠিক এই সময়েই বৌদ্ধধর্মের ধ্যান এবং মননশীলতার শিক্ষাগুলি এক নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। মেডিটেশন বা ধ্যানের মাধ্যমে আমরা আমাদের মনকে শান্ত করতে শিখি, বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিতে শিখি এবং জীবনের প্রতি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করি। আমার নিজের অভিজ্ঞতাতেও দেখেছি, যখনই মনে খুব অস্থিরতা আসে, কিছুক্ষণ ধ্যান করলে মন অনেকটাই শান্ত হয়ে যায়। বৌদ্ধধর্মের এই কৌশলগুলি আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরাও গ্রহণ করছেন মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে।

প্রাচীন ভারতের জ্ঞানচর্চা ও বৌদ্ধধর্ম: শিক্ষার নতুন দিগন্ত

প্রাচীন ভারতে বৌদ্ধধর্ম শুধু একটি ধর্মীয় আন্দোলন ছিল না, এটি জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও এক বিশাল বিপ্লব এনেছিল। ভাবো তো, নালন্দা, তক্ষশিলার মতো মহাবিহারগুলো ছিল যেন প্রাচীন বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়!

এখানে কেবল ধর্মীয় শিক্ষাই দেওয়া হতো না, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, চিকিৎসা, যুক্তিবিদ্যা—সব বিষয়েই জ্ঞানচর্চা চলত। আমার নিজের যখন কোনো বিষয়ে গভীর জ্ঞান লাভের ইচ্ছা হয়, তখন এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা ভাবলে সত্যিই অনুপ্রেরণা পাই। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা কেবল ধর্মপ্রচারক ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন শিক্ষক, দার্শনিক আর গবেষকও। তাঁরা নতুন নতুন গ্রন্থ রচনা করেছেন, পুরনো জ্ঞানকে সংরক্ষণ করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। এই মহাবিহারগুলো শুধু ভারতেরই নয়, এশিয়া জুড়ে জ্ঞান ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশ থেকে এখানে জ্ঞান অর্জনের জন্য আসত। বৌদ্ধধর্মের এই জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যই দেখিয়ে দেয় যে, ধর্ম আর জ্ঞান কিভাবে একে অপরের পরিপূরক হতে পারে, কিভাবে ধর্ম মানুষকে শুধু আধ্যাত্মিক পথই দেখায় না, বরং তার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও সহায়তা করে।

নালন্দা ও অন্যান্য মহাবিহারের অবদান

নালন্দা মহাবিহার ছিল প্রাচীন ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি এবং বৌদ্ধধর্মের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু। এখানে হাজার হাজার ছাত্র এবং শত শত শিক্ষক বসবাস করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ করতেন। আমার মনে হয়, নালন্দার মতো প্রতিষ্ঠানগুলি প্রাচীনকালে জ্ঞানচর্চার যে বিশাল দিগন্ত উন্মোচন করেছিল, তার তুলনা মেলা ভার। এখানে কেবল বৌদ্ধ দর্শনই নয়, আয়ুর্বেদ, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা এবং কলা বিষয়েও শিক্ষা দেওয়া হতো। এছাড়াও, তক্ষশিলা, বিক্রমশিলা, ওদন্তপুরীর মতো অন্যান্য মহাবিহারগুলিও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই প্রতিষ্ঠানগুলি কেবল শিক্ষাদানই করত না, বরং পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ, অনুলিপি তৈরি এবং গবেষণার কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করত।

বৌদ্ধ সাহিত্য ও দার্শনিক বিকাশ

বৌদ্ধধর্মের উত্থানের সাথে সাথে এক বিশাল সাহিত্য ভান্ডারও তৈরি হয়েছিল। পালি ক্যানন, যা ত্রিপিটক নামে পরিচিত, তাতে বুদ্ধের শিক্ষা এবং তাঁর ভিক্ষুদের উপদেশাবলী লিপিবদ্ধ আছে। এছাড়াও, বিভিন্ন বৌদ্ধ দার্শনিকরা তাঁদের নিজস্ব ভাষ্য এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা বৌদ্ধ দর্শনের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখাকে সমৃদ্ধ করেছে। আমার কাছে এই সাহিত্যগুলি যেন এক গুপ্তধনের মতো, যেখানে জীবনের গভীরতম প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। এই সাহিত্যগুলি কেবল ধর্মীয় জ্ঞানই প্রদান করে না, বরং তৎকালীন সমাজের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কেও মূল্যবান তথ্য দেয়। বৌদ্ধ দার্শনিকরা যুক্তিবিদ্যা, জ্ঞানতত্ত্ব এবং অধিবিদ্যা নিয়েও গভীর আলোচনা করেছেন, যা ভারতীয় দর্শনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

মূল ধারণা সংক্ষিপ্ত বিবরণ গুরুত্ব
চার আর্য সত্য দুঃখ আছে, দুঃখের কারণ আছে, দুঃখের নিবৃত্তি সম্ভব, দুঃখ নিবৃত্তির পথ আছে। বৌদ্ধধর্মের মৌলিক ভিত্তি, দুঃখ থেকে মুক্তির মূল সূত্র।
অষ্টাঙ্গিক মার্গ সঠিক জ্ঞান, সংকল্প, বাক্য, কর্ম, জীবনধারণ, প্রচেষ্টা, মনন, সমাধি। দুঃখ নিবৃত্তির ব্যবহারিক পথ, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনযাপনের নির্দেশনা।
সংঘ ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীদের সম্প্রদায়, বুদ্ধের শিক্ষা প্রচার ও সংরক্ষণ। সামাজিক সমতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বৌদ্ধধর্মের বিস্তারে সহায়ক।
মধ্যপন্থা চরম ভোগ বা চরম ত্যাগ পরিহার করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন। অতিরিক্ততা পরিহার করে সঠিক পথের দিশা, মানসিক শান্তির চাবিকাঠি।
অহিংসা ও করুণা সকল প্রাণীর প্রতি অহিংসা এবং সহানুভূতির নীতি। বৌদ্ধধর্মের মানবিক আবেদন, বিশ্ব শান্তি ও সহাবস্থানের ভিত্তি।

লেখাটি শেষ করছি

বন্ধুরা, রাজকুমারের মহাজাগতিক পথযাত্রা থেকে শুরু করে অশোকের আধ্যাত্মিক বিপ্লব, আর দূর দূরান্তে বুদ্ধবাণীর বিস্তার—সবকিছু নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমার মন ভরে উঠলো এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে। এই প্রাচীন জ্ঞান আজও আমাদের জীবনে কতটা প্রাসঙ্গিক, সেটা অনুভব করতে পেরেছি আবারও। বুদ্ধের প্রতিটি শিক্ষা যেন সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও আমাদের পথ দেখাচ্ছে, দুঃখ থেকে মুক্তির এক সুন্দর দিগন্ত উন্মোচন করছে। তাঁর দর্শন শুধু একটি ধর্ম নয়, বরং এক জীবনদর্শন, যা আমাদের মানবিকতা আর শান্তির পথে নিয়ে যায়।

Advertisement

কিছু দরকারি তথ্য যা আপনার কাজে লাগতে পারে

১. বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তি অহিংসা এবং সকল প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি। এই দুটি নীতি শুধু ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন ছোট ছোট বিষয়েও অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হন, দেখবেন আপনার নিজের মনও অনেক শান্তিতে ভরে উঠেছে। আধুনিক সমাজে যখন সংঘাত আর বিভেদ বাড়ছে, তখন বুদ্ধের এই অহিংসার বার্তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। এটি আমাদের শেখায় কিভাবে নিজেদের রাগ, বিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণ করে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তৈরি করা যায়। তাই, নিজের জীবনে এই নীতিগুলি প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন, আপনি নিজেই এর সুফল দেখতে পাবেন।

২. বৌদ্ধধর্মে ‘মধ্যপন্থা’র ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চরম ভোগ বা চরম কৃচ্ছ্রসাধন পরিহার করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের কথা বলে। আমাদের জীবনেও কোনো কিছুতে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ভালো নয়। সবকিছুর মধ্যে একটা স্বাভাবিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াটাই আসল। ব্যক্তিগত জীবনে, কর্মক্ষেত্রে বা যেকোনো সম্পর্কে এই মধ্যপন্থা অবলম্বন করলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। যেমন, খুব বেশি কাজ করা বা একদম কাজ না করা—কোনোটাই স্বাস্থ্যকর নয়। বরং কাজ ও বিশ্রামের মধ্যে একটা সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই মধ্যপন্থা আমাদের জীবনে শান্তি ও স্থায়িত্ব এনে দিতে সাহায্য করে।

৩. মানসিক শান্তি অর্জনের জন্য বৌদ্ধধর্মে ধ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। মেডিটেশন বা মননশীলতা অনুশীলন আপনাকে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিতে শেখায় এবং মানসিক অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে। আজকাল অনেকেই স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি বা হতাশার সাথে লড়াই করছেন। ধ্যানের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমি নিজেও যখন খুব ব্যস্ত থাকি বা কোনো কারণে মনটা বিক্ষিপ্ত লাগে, তখন কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে শান্ত পরিবেশে বসে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি। এতে সত্যিই মন অনেক শান্ত হয় এবং নতুন করে কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। নিয়মিত ধ্যান অভ্যাস করলে জীবনের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গিও অনেক ইতিবাচক হয়ে উঠবে।

৪. প্রাচীন ভারতের নালন্দা ও তক্ষশিলার মতো বৌদ্ধ মহাবিহারগুলো ছিল জ্ঞানচর্চার অসাধারণ কেন্দ্র। সেখানে শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, বিজ্ঞান, গণিত, চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং দর্শনের মতো বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করা যেত। এই বিষয়গুলো দেখলে বোঝা যায়, বৌদ্ধধর্ম কেবল আধ্যাত্মিক মুক্তির পথ দেখায়নি, বরং মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও কতটা গুরুত্ব দিয়েছিল। আজকের যুগেও শেখার প্রতি এই আগ্রহ এবং জ্ঞানের সাধনা আমাদের জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। প্রাচীনকালের এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জ্ঞানচর্চা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর মাধ্যমেই মানব সভ্যতা এগিয়ে যায়।

৫. সম্রাট অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধের পর হৃদয়ের পরিবর্তন এবং বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা। একজন প্রবল পরাক্রমশালী রাজা যখন যুদ্ধের পথ ছেড়ে শান্তির পথ বেছে নেন, তখন তা গোটা মানবজাতির জন্য এক নতুন উদাহরণ তৈরি করে। অশোকের নীতিগুলি প্রমাণ করে যে, ক্ষমতা এবং অহিংসা একসাথে চলতে পারে, এবং ভালোবাসা ও সহনশীলতা দিয়েই একটি সমাজকে পরিবর্তিত করা সম্ভব। তাঁর সময়কালেই বৌদ্ধধর্ম ভারতের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। এই ঘটনা থেকে আমরা শিখতে পারি যে, পরিবর্তন আনার জন্য অস্ত্রের প্রয়োজন হয় না, দরকার শুধু দৃঢ় সংকল্প আর মানবিকতা।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো একনজরে

বুদ্ধের জীবন আমাদের শেখায় যে সত্যিকারের সুখ বস্তুগত সম্পদে নয়, বরং আত্মিক শান্তি আর আত্ম-উপলব্ধিতে নিহিত। তাঁর মধ্যপন্থা এবং চার আর্য সত্যের শিক্ষা আজও আমাদের দুঃখ থেকে মুক্তির পথ দেখায়। সংঘের প্রতিষ্ঠা সামাজিক সাম্য এনেছিল, যা বৌদ্ধধর্মকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। সম্রাট অশোকের পৃষ্ঠপোষকতা বৌদ্ধধর্মকে কেবল রাষ্ট্রীয় নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, যা অহিংসা ও করুণার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। বৌদ্ধধর্মের মানবিক আবেদন, জ্ঞানচর্চার প্রতি তার গুরুত্ব এবং মানসিক শান্তির জন্য ধ্যানের ব্যবহার আজও একে আমাদের জীবনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক করে তোলে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: গৌতম বুদ্ধ কে ছিলেন এবং তিনি কেন নির্বাণ লাভের পথে পা বাড়িয়েছিলেন?

উ: এই প্রশ্নটা প্রায় সবার মনেই আসে, জানো তো? গৌতম বুদ্ধ, যাঁর আসল নাম ছিল সিদ্ধার্থ গৌতম, তিনি ছিলেন একজন রাজকুমার। তাঁর জন্ম হয়েছিল নেপালের লুম্বিনিতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে। তাঁর জীবনটা ছিল আরাম-আয়েশের ঘেরাটোপে ভরা, কিন্তু রাজপ্রাসাদের বাইরে একবার বের হয়ে তিনি যখন বৃদ্ধ, অসুস্থ আর মৃত মানুষ দেখলেন, তখন তাঁর মনে এক গভীর জিজ্ঞাসা তৈরি হলো। এই পৃথিবীতে এত দুঃখ কেন?
সুখ কি শুধুই ক্ষণস্থায়ী? এই প্রশ্নগুলোই তাঁকে অস্থির করে তুলেছিল। আমার নিজেরও যখন কোনো কঠিন প্রশ্নের উত্তর পাই না, তখন মনে হয়, সিদ্ধার্থের মতো সব ছেড়েছুড়ে বেরিয়ে পড়ি!
তিনি স্ত্রী-পুত্র, রাজত্ব সব ত্যাগ করে সত্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। অনেক সাধনার পর, বোধগয়াতে একটি বোধিবৃক্ষের নিচে বসে তিনি নির্বাণ লাভ করেন, অর্থাৎ জীবনের পরম সত্য উপলব্ধি করেন। এই আত্মোপলব্ধিই তাঁকে ‘বুদ্ধ’ উপাধি এনে দেয়, যার অর্থ ‘আলোকপ্রাপ্ত’। তাঁর এই যাত্রা আমাদের শেখায় যে, জীবনের আসল শান্তি বাইরের কোনো ভোগ-বিলাসে নয়, বরং নিজের ভেতরের অনুসন্ধানেই লুকিয়ে আছে।

প্র: বৌদ্ধধর্মের মূল শিক্ষাগুলো কী ছিল যা মানুষকে এত আকর্ষণ করেছিল?

উ: বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তি হলো ‘চারটি আর্য সত্য’ আর ‘অষ্টাঙ্গিক মার্গ’। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এই শিক্ষাগুলো এতটাই সরল কিন্তু শক্তিশালী যে যে কারো মন ছুঁয়ে যায়। প্রথম আর্য সত্য হলো – জীবন দুঃখময়। দ্বিতীয়টি – এই দুঃখের কারণ হলো তৃষ্ণা বা আসক্তি। তৃতীয়টি – এই তৃষ্ণা ত্যাগ করতে পারলেই দুঃখ দূর করা সম্ভব। আর চতুর্থটি – দুঃখ মুক্তির পথ হলো অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ করা। অষ্টাঙ্গিক মার্গের আটটি পথ হলো – সৎ বাক্য, সৎ কর্ম, সৎ জীবিকা, সৎ প্রচেষ্টা, সৎ স্মৃতি, সৎ সমাধি, সৎ সংকল্প এবং সৎ দৃষ্টি। বুদ্ধের দেখানো এই পথগুলো আসলে আমাদের জীবনকে একটা ছকে ফেলে দেয়, যেখানে আমরা নিজেদের ভালো-মন্দ কাজগুলোকে নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে শিখি। তিনি অহিংসা, মৈত্রী আর করুণার কথা বলেছিলেন। সেই সময় সমাজে যখন নানা ভেদাভেদ ছিল, তখন বুদ্ধের এই সাম্যবাদী দর্শন মানুষকে এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছিল। ধনী-গরিব, উচ্চ-নিচ নির্বিশেষে সবাই তাঁর সান্নিধ্যে এসে শান্তি খুঁজে পেয়েছিল। আমার মতে, এটাই বৌদ্ধধর্মের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল – একটা শান্তির পথ, যেখানে সবাই সমান।

প্র: কিভাবে বৌদ্ধধর্ম এত দ্রুত ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল?

উ: বৌদ্ধধর্মের দ্রুত প্রসারের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সম্রাট অশোকের ভূমিকা। যখন আমি প্রাচীন ভারতের ইতিহাস পড়ি, তখন অশোকের কথা আমাকে মুগ্ধ করে তোলে। কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে তাঁর মন বদলে গিয়েছিল, এবং তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি শুধু নিজে ধর্ম পালন করেননি, বরং একে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। তিনি তাঁর ছেলে মহেন্দ্র এবং মেয়ে সংঘমিত্রাকে সিংহলে (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) পাঠিয়েছিলেন বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য। এছাড়াও, তিনি অসংখ্য স্তূপ ও বিহার নির্মাণ করিয়েছিলেন, ধর্মীয় অনুশাসন প্রচারের জন্য স্তম্ভলিপি স্থাপন করেছিলেন। সাধারণ মানুষের ভাষায় পালি ভাষায় বুদ্ধের বাণী প্রচারিত হওয়ায় সেটি সহজে সবার কাছে পৌঁছাতে পেরেছিল। ব্রাহ্মণ ধর্মের জটিল আচার-অনুষ্ঠান থেকে মুক্তি পেয়ে সাধারণ মানুষ বুদ্ধের সহজ-সরল অহিংসার বাণীকে সাদরে গ্রহণ করেছিল। শ্রমণরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ধর্ম প্রচার করতেন, যা এর বিস্তারে আরও সহায়ক হয়েছিল। আমার মনে হয়, অশোকের মতো একজন শক্তিশালী শাসকের সমর্থন আর ধর্মের সহজবোধ্যতাই বৌদ্ধধর্মকে এত দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলেছিল। এটা যেন ঠিক এক স্ফুলিঙ্গের মতো, যা বিশাল অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছিল খুব কম সময়ে।আশা করি, এই আলোচনা তোমাদের ভালো লেগেছে এবং বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা দিতে পেরেছে।

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement